প্রাথমিক মেডিটেশন

যখন আপনি বাড়ীতে বসে ধ্যান করবেন, আপরার ঘরের একটা কোনার দিকের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পবিত্র যায়গা বেছে নিন যেখানটাতে শুধুই আরাধনা করবেন। আপনার দৈনন্দিন আরাধনার জন্য সর্বোত্তম হলো একা একা করা। ধ্যান শুরু করার আগে স্নান করলে ভালো এবং আমার উপদেশ পরিষ্কার ও হালকা কাপড় পরে নেয়া।

আধ্যাত্মিক জীবন অনুসরন করতে হলে আপনাকে অন্তত: প্রতিদিন একবার ধ্যান করতে হবে। এটা উত্তম যদি আপনি ভোরের আগে শুরু করেন যখন আবহাওয়া শান্ত ও শান্তিপুর্ন থাকে। সন্ধ্যাকাল আর এক উপযুক্ত সময়। আপনি যদি ধ্যান এর প্রতি গুরুত্ব দেন এবং আন্তরিক হন, আপনার আরাধনার শক্তি স্বয়ংক্রীড়াশীল ভাবে বাড়বে। আপনি যদি নিয়মিত ও সময়ানুবর্ত্তী ভাবে ধ্যান করেন আপনি নিজেই আপনার উন্নতি প্রত্যক্ষ করবেন। ধ্যান এর জন্য একটি নিদিষ্ট সময় বেধে নিলে আপনার ক্লান্তি, অবসাদ এবং উশৃংখল খেয়ালী মনের বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন।

আরাধনার সময়, আপনার শিরদাঁড়া খাড়া ও সোজা এবং শরীর শিথিল রাখাটা গুরুত্বপুর্ন। আপনি লক্ষ্য করবেন আপনার ভিতর তেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবেই আপনাকে নিয়ে যাবে এক আরামদায়ক অবস্থানে; এবং আপনার উপর নির্ভর করছে এ অবস্থানকে বজায় রাখা। কিছু অনুসনধানীরা শুয়ে থাকা অবস্থায় ধ্যান করতে পছন্দ করেন, কিন্তু এটা উপযোগী উপদেশ নয়। আপনি অতি সহজেই ঘুম অথবা এক ধরনের তন্দ্রার জগতে চলে যেতে পারেন। আবার,পদ্মাসনে,যা একটু জটিলতর যোগাসন, অতিআবশ্যক বা প্রয়োজনীয় নয় যথাযথ ভাবে ধ্যান করার জন্য। অনেকে চেয়ারে বা কেদারায় বসে থাকা অবস্থায় খুব ভাল ধ্যান করেন। যদি আপনি কিছু সুগন্ধিদ্বীপ এবং মোম জ্বালান এবং সামনে কিছু ফুল রেখে দেন সেটা সাহায্য করতে পারে। বাইরের ফুলগুলি আপনাকে মনে করিয়ে দেবে আপনার হৃদয়কুসুমকে। যখন আপনি সুগন্ধিদ্বীপ এর সুঘ্রান নিবেন আপনি অনুপ্রেরনা পাবেন এবং শোধিত হয়ে বাড়াবে আপনার অন্তেরর রত্নরাজি। যখন আপনি বাইরে মোমের শিখা দেখবেন, সাথে সাথেই আপনি অনুভব করবেন আপনার অন্তরের আলোর জ্যোতির শিখা ক্রমশই উপরে ধেয়ে উঠছে, উচু আরও উচু হয়ে সুউচ্চে।

যথাযথ নিশ্বাস প্রশ্বাস ধ্যানের জন্য অতি গুরুত্বপুর্ন। যখন শ্বাস-প্রশ্বাস নিবেন চেষ্ঠা করুন যত ধীরে এবং যত নিঃশব্দে সম্ভব শ্বাস গ্রহন করতে। যাতে যদি কেউ আপনার নাকের সামকে একটু সুক্ষ্ণ সূতা ঝুলিয়ে রাখে- সে মোটেই দুলবেনা। এবং চেষ্টা করুন আরও ধীরে এবং নি:শব্দে প্রশ্বাস ছাড়তে। যদি সম্ভব হয় সামান্য সময়ের বিরতি রাখুন প্রশ্বাস ত্যাগ করার পর হতে পরবর্তী শ্বাস গ্রহন করার আগে। যদি আপনি পারেন, শ্বাস বন্ধ রাখুন কয়েক মুহূর্তের জন্য। কিন্তু এটা যদি কঠিন হয় আপনার জন্য তবে করবেন না। এমন কিছু করবেন না যা আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস তন্দ্রের অঙ্গাবলীর জন্য হানিকর।

প্রতিবার যখন আপনি শ্বাস গ্রহন করবেন, অনুভব করার চেষ্টা করুন যে আপনি আপনার শরীরে অনন্ত শান্তি গ্রহন করছেন। যখন আপনি প্রশ্বাস ছাড়ছেন, অনুভব করার চেষ্ঠা করুন আপনি নির্গত করে দিচ্ছেন আপনার শরীর ও আশে পাশের চতুর্দিকের সব চঞ্চল-অস্থিরতা। এভাবে কয়েকবার অভ্যাসের পর, অনুভব করার চেষ্ঠা করুন যেন আপনি সমস্ত বিশ্বব্রম্‌হান্ড থেকে শক্তি শুষে গ্রহন করছেন। যখন আপনি প্রশ্বাস ছাড়ছেন, অনুভব করার চেষ্টা করুন, আপনার সকল ভয়ভীতি আপনার শরীর থেকে নির্গত হয়ে যাচ্ছে। এভাবে কয়েক বার পরপর চেষ্টা করুন যেন আপনি শ্বাস গ্রহনের মাধ্যমে গ্রহন করছেন অপার আনন্দ এবং আপনি যা প্রশ্বাসের সঙ্গে ছেড়ে দিচ্ছেন দুঃখ, ক্লেশ, যন্ত্রনা ও বিষন্নতা।

আরও বেশ কিছু জিনিষ আছে যা আপনি চেষ্ঠা করতে পারেন। অনুভব করুন, আপনি বাতাসের মধ্যে শ্বাস নিচ্ছেন না, নিচ্ছেন মহাজাগতিক ক্ষমতা সম্পন্ন রশ্মি থেকে। অনুভব করুন, আপনার শরীরের এমন কোন একটি স্থান নেই যে স্থান মহাজাগতিক রশ্মিতে পুর্ন হয়নি। এটা একটা প্রবহমান নদীর মতো আপনার শরীর বেয়ে চলার সময় ধুয়ে পরিষ্কার-পরিশোধন করে দিচ্ছে আপনার সমস্ত সত্ত্বা। যখন আপনি প্রশ্বাস ছাড়তে আরম্ভ করছেন, অনুভব করুন, আপনি প্রশ্বাসের সাথে ত্যাগ করছেন আপনার ভিতরের যত ময়লা-আবর্জনা, আপনার সব কুচিন্তা আর লুকিয়ে রাখা হীন অনৈতিকতা। ~ শ্রী চিন্ময়, পরমানন্দের পথে